
উদ্যোক্তার নাম: জবা রানী
স্বামী: তপন মন্ডল
গ্রাম: জয়নগর, ইউনিয়ন: জয়নগর
পণ্য: বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প ও নকশি পণ্য
উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু: ২০০৫ সাল
সাগরিকাদিদির অনুপ্রেরণা: দুই দশক আগের এক নতুন সকাল
আজ থেকে প্রায় দুই দশক আগে, ২০০৫ সালের কথা। যখন গ্রামীণ নারীদের ঘরের বাইরে এসে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পথটা আজকের মতো এত সহজ ছিল না, তখন জয়নগর গ্রামের জবা রানী এক সাহসী স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর এই স্বপ্নের প্রথম দিশারী ছিলেন ‘সাগরিকাদিদি’। সাগরিকাদিদির সেই অনুপ্রেরণা আর নিজের ভেতরের সুপ্ত সৃষ্টিশীলতাকে পুঁজি করে জবা রানী প্রথম কাপড়ের বুকে সুঁই-সুতোর ফোঁড় তুলতে শুরু করেন। তপন মন্ডলের সংসারে জবা রানী তখন থেকেই এক নতুন ভোরের সূচনা করেছিলেন।
২০০৫ থেকে পথচলা: হস্তশিল্পের জীবন্ত ইতিহাস ও কাজের প্রতি মায়া
জবা রানী কেবল একজন সাধারণ উদ্যোক্তা নন, তিনি জয়নগর অঞ্চলের হস্তশিল্পের একজন জীবন্ত ইতিহাস। দীর্ঘ ২১ বছর ধরে (২০০৫-২০২৬) প্রতিদিন সংসারের সমস্ত কাজ সামলে পরম মমতায় তিনি তৈরি করে চলেছেন নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প। এই দীর্ঘ পথচলায় কাজের প্রতি তাঁর ভালোবাসা বিন্দুমাত্র কমেনি, বরং বেড়েছে। জবা রানী জানান, এই কাজটির সাথে তাঁর জীবনের এক গভীর মিতালী গড়ে উঠেছে; কাজ করতে বসলে তাঁর মন এক অদ্ভুত প্রশান্তি ও ভালো লাগায় ভরে যায়। প্রতিটি পণ্যের সু নিখুঁত মাপে এবং ফিনিশিংয়ে আজ ফুটে ওঠে তাঁর দুই দশকের অভিজ্ঞতা ও সাধনা।
পণ্যের বিশেষত্ব: নিখুঁত মাপ ও প্রবীণ হাতের জাদু
জবা রানীর তৈরি পণ্যের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো—এর কাজের স্থায়িত্ব এবং নিখুঁত ফিনিশিং। “কাজের মান ভালো থাকে এবং পণ্যের সঠিক মাপ আছে”—এটিই তাঁর তৈরি পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের দীর্ঘদিনের বিশ্বাসের মূল ভিত্তি। অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনেও তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে ক্রেতাদের হাতে পণ্য তুলে দেন। স্থানীয় ছোট বাজারে তাঁর তৈরি পণ্যের অনেক ভালো চাহিদা ও সুনাম রয়েছে। নিজের তৈরি পণ্য যখন মানুষের প্রশংসা পায়, তখন তাঁর দীর্ঘ ২০-২১ বছরের সব কষ্ট ও ক্লান্তি এক নিমেষে মুছে গিয়ে এক অনন্য মানসিক তৃপ্তি এনে দেয়।
পল্লীবাজারের হাত ধরে জয়নগর থেকে বিশ্বমঞ্চে
২১ বছর ধরে জবা রানীর এই অসাধারণ শিল্পকর্মগুলো মূলত স্থানীয় ছোট বাজার বা লোকাল কাস্টমারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। প্রত্যন্ত গ্রামে থাকার কারণে এবং ডিজিটাল মাধ্যমের সাথে সংযোগ না থাকায় তাঁর এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সঠিক মূল্যায়ন বা বড় কোনো বাজার পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এখন পল্লীবাজার (Pallibazar)-এর ডিজিটাল আঙিনায় যুক্ত হতে যাচ্ছে জবা রানীর এই দুই দশকের সাধনার ফসল। “শেকড়ের টানে প্রযুক্তির ছোঁয়া” স্লোগানটিকে বাস্তবে রূপ দিয়ে পল্লীবাজার আজ জয়নগর গ্রামের জবা রানীর মতো প্রবীণ ও গুণী কারিগরদের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প সরাসরি পৌঁছে দিচ্ছে দেশের আধুনিক ই-কমার্স ক্রেতাদের দোরগোড়ায়। প্রযুক্তির এই ছোঁয়া জবা রানীর চব্বিশ বছরের অভিজ্ঞতাকে দিচ্ছে এক নতুন ডানা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে করছে আরও সমৃদ্ধ।
“প্রতিটি পণ্যের পেছনে আছে একজন স্বপ্নবাজ উদ্যোক্তার গল্প।”
জবা রানীর দুই দশকের অভিজ্ঞতা ও পরম মমতায় বোনা নিখুঁত হস্তশিল্পের অনন্য কালেকশন সরাসরি সংগ্রহ করতে এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আজই ভিজিট করুন আমাদের পল্লীবাজার উদ্যোক্তা কর্নার-এ।
