
উদ্যোক্তার নাম: জেসমিন নাহার
পিতা: আব্দুল বারি
গ্রাম: সেনের গাতি, ইউনিয়ন: ধানদিয়া
উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু: ২০১৯ সাল
নিজের আগ্রহে শুরু হওয়া এক নীরব বিপ্লব
সাতক্ষীরার ধানদিয়া ইউনিয়নের সেনের গাতি গ্রামের জেসমিন নাহার ২০১৯ সালের আগে আর দশটা সাধারণ গ্রামীণ গৃহবধূর মতোই ছিলেন। কিন্তু তাঁর মনের ভেতর লুকিয়ে ছিল নিজে কিছু একটা করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। কোনো বাহ্যিক চাপ বা বড় কোনো সহযোগিতা ছাড়াই, সম্পূর্ণ নিজের আগ্রহ এবং গভীর ভালোবাসাকে পুঁজি করে তিনি সুঁই-সুতোর কাজ শুরু করেন। ঘরকন্ন্যার কাজের ফাঁকে ফাঁকে রঙিন সুতো দিয়ে কাপড়ের বুকে তিনি ফুটিয়ে তুলতে শুরু করেন নান্দনিক নকশা। এই সাধারণ শুরুটাই যে তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবে, তা হয়তো তিনি নিজেও ভাবেননি।
১০-১২ দিনের সাধনা এবং একটি সম্পূর্ণ শিল্পকর্ম
জেসমিন নাহারের তৈরি একেকটি ‘ম্যাট’ বা ‘বসার আসন’ কেবল কিছু সুতোর জটলা নয়; এটি তাঁর ক্লান্তিহীন সাধনার ফসল। নিখুঁত ডিজাইন ফুটিয়ে তুলতে এবং প্রতিটি আসন সম্পূর্ণ হাতে বুনে শেষ করতে তাঁর একটানা ১০ থেকে ১২ দিন কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। যখন গভীর মনোযোগ দিয়ে তিনি সুতোর নিখুঁত টানগুলো দেন, তখন তাঁর মনে অন্যরকম এক ভালো লাগা কাজ করে। প্রতিটি কাজের পেছনে থাকে তাঁর ধৈর্য এবং নিপুণতা। পুরো ১০-১২ দিনের খাটনি শেষে যখন একটি আসন পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়, তখন তাঁর সৃষ্টিশীল মন এক পরম আত্মতৃপ্তিতে ভরে ওঠে।
পণ্যের বিশেষত্ব ও আনন্দের নতুন ঠিকানা
জেসমিন নাহারের তৈরি এই নকশি ম্যাটগুলোর সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো—এগুলো শতভাগ হাতে তৈরি এবং এর স্থায়িত্ব ও ডিজাইন অনন্য। পণ্যটি যখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয় এবং কেউ যখন সেটি দেখে প্রশংসা করে, তখন তাঁর দীর্ঘদিনের সমস্ত ক্লান্তি এক নিমেষেই মুছে যায়। নিজের হাতে তৈরি পণ্য যখন বাজারে সমাদৃত হয়, একজন উদ্যোক্তার কাছে এর চেয়ে বড় আনন্দের আর কিছুই হতে পারে না। আব্দুল বারির ঘর আজ শুধু জেসমিনের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় সুন্দরই হচ্ছে না, বরং অর্থনৈতিকভাবেও স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে।
পল্লীবাজারের আঙিনায় শেকড়ের গল্প
গ্রামীণ অঞ্চলের এই অসাধারণ হস্তশিল্পগুলো সঠিক প্রচারের অভাবে এতদিন কেবল লোকালয় বা ঘরের কোণেই সীমাবদ্ধ ছিল। গুণগত মান সেরা হওয়া সত্ত্বেও সঠিক মূল্য ও কাস্টমার পাওয়া ছিল জেসমিনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।
এখন পল্লীবাজার (Pallibazar)-এর মাধ্যমে জেসমিন নাহারের এই দিন-রাতের পরিশ্রমের ফসল, এই নিখুঁত “হাতের ছোঁয়া” সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে শহরের সৌখিন মানুষদের ড্রয়িংরুমে। প্রযুক্তির মেলবন্ধনে এখন সেনের গাতি গ্রামের জেসমিনের মতো স্বপ্নবাজ নারীরা নিজেদের তৈরি পণ্যের সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছেন এবং বিশ্বস্ততার সাথে এগিয়ে চলেছেন।
“প্রতিটি পণ্যের পেছনে আছে একজন স্বপ্নবাজ উদ্যোক্তার গল্প।”
জেসমিন নাহারের পরম যত্নে বোনা ১০-১২ দিনের সাধনার এই অনন্য নকশি ম্যাট বা বসার আসনটি দিয়ে আপনার ঘরকে সাজাতে এবং আমাদের গ্রামীণ কুটির শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে আজই ভিজিট করুন আমাদের উদ্যোক্তা কর্নার-এ।
