
উদ্যোক্তার নাম: রমেছা বেগম
স্বামী: আব্দুল বারী
গ্রাম: সেনের গাতি, ইউনিয়ন: ধানদিয়া
পণ্য: শতভাগ খাঁটি ঘি
উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু: ২০১৮ সাল
মায়ের শেখানো রেসিপি: এক উত্তরাধিকারের সুবাস
সাতক্ষীরার ধানদিয়া ইউনিয়নের সেনের গাতি গ্রামের বাতাস যেন একটু বেশিই সুবাসিত। সেই সুবাস কোনো কৃত্রিম সুগন্ধির নয়, তা হলো রমেছা বেগমের ঘরে তৈরি হওয়া খাঁটি ঘিয়ের ম ম গন্ধ। ২০১৮ সালে রমেছা বেগম যখন প্রথম বাণিজ্যিকভাবে এই কাজ শুরু করেন, তখন তাঁর সবচেয়ে বড় মূলধন ছিল তাঁর মায়ের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা। ছোটবেলায় মায়ের হাতে তৈরি ঘিয়ের যে স্বাদ আর সুঘ্রাণ তিনি পেয়েছিলেন, তা-ই আজ তিনি পরম মমতায় ফিরিয়ে আনছেন আধুনিক রসনাবিলাসীদের পাতে। মায়ের সেই ঐতিহ্যবাহী রেসিপিই আজ রমেছা বেগমের জীবনের নতুন এক পরিচয় এনে দিয়েছে।
৭ দিনের ক্লান্তিহীন নিষ্ঠা ও নিজের গরুর খাঁটি দুধ
আজকের ভেজালের বাজারে যেখানে এক ঘণ্টায় ঘি তৈরির কেমিক্যাল পাওয়া যায়, সেখানে রমেছা বেগমের একেকটি ব্যাচ ঘি তৈরি হতে সময় লাগে দীর্ঘ ৭ দিন। তাঁর ঘিয়ের প্রধান বিশেষত্ব হলো—এতে বিন্দুমাত্র কোনো কেমিক্যাল বা বাইরের সস্তা তেলের “কোনো ভেজাল” থাকে না। নিজের বাড়ির গরুর খাঁটি দুধ থেকে প্রতিদিন পরম যত্নে মন্থন করে তিনি মাখন তোলেন, তারপর ধিমে আঁচে জ্বাল দিয়ে তৈরি করেন সোনালী রঙের দানা weদার ঘি। এই দীর্ঘ ৭ দিনের প্রতিটি মুহূর্ত কাটে গভীর মনোযোগ ও নিষ্ঠার সাথে। কাজটা বেশ খাটনির হলেও, যখন ঘিয়ের পাত্রটি পূর্ণ হয়ে ওঠে, তখন রমেছার মন এক অদ্ভুত মানসিক তৃপ্তি ও ভালো লাগায় ভরে যায়।
সততার মূল্য ও আনন্দের নতুন সমীকরণ
রমেছা বেগম মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, খাবার জিনিস মানুষের কাছে আমানত। তাই আব্দুল বারীর সংসারে আজ শুধু অর্থনৈতিক সচ্ছলতাই আসেনি, বরং যোগ হয়েছে সততার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। রমেছা বেগমের তৈরি ঘি যখন কেউ একবার ব্যবহার করে প্রশংসা করে, কিংবা দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে তাঁর সততার তারিফ করে, তখন একজন উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর বুক গর্বে ভরে ওঠে। কাস্টমারদের এই নিখাদ ভালোবাসাই তাঁর প্রতিদিনের খাটনিকে আনন্দে রূপান্তর করে দেয়।
পল্লীবাজারের আঙিনায় সেনের গাতি গ্রামের সোনালী ঘি
আমাদের গ্রামীণ জনপদে রমেছা বেগমের মতো এমন অনেক নিষ্ঠাবান মা-বোনেরা আছেন, যাঁদের তৈরি পণ্যের গুণগত মান যেকোনো নামী ব্যান্ডের চেয়ে হাজার গুণ সেরা। কিন্তু সঠিক প্রচার এবং প্রযুক্তির অভাবে এই খাঁটি পণ্যগুলো এতদিন সেনের গাতি গ্রামের চার দেয়ালের বাইরে বেশি দূর পৌঁছাতে পারেনি।
এখন পল্লীবাজার (Pallibazar)-এর হাত ধরে রমেছা বেগমের এই ৭ দিনের সাধনার ফসল, এই সুবাসিত সোনালী খাঁটি ঘি সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে শহরের প্রতিটি সচেতন ও স্বাস্থ্যসচেতন পরিবারের ডাইনিং টেবিলে। “শেকড়ের টানে প্রযুক্তির ছোঁয়া” স্লোগানটিকে বাস্তবে রূপ দিয়ে পল্লীবাজার আজ রমেছা বেগমের সততাকে পৌঁছে দিচ্ছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের লাখো ক্রেতার দুয়ারে।
“প্রতিটি পণ্যের পেছনে আছে একজন স্বপ্নবাজ উদ্যোক্তার গল্প।”
রমেছা বেগমের নিজের বাড়ির গরুর দুধ থেকে তৈরি শতভাগ কেমিক্যাল ও ভেজালমুক্ত খাঁটি ঘিয়ের সুবাস ও পুষ্টি আপনার পরিবারকে উপহার দিতে আজই অর্ডার করুন আমাদের পল্লীবাজার উদ্যোক্তা কর্নার থেকে।
