উদ্যোক্তার নাম: চৈতালি পাল
পিতা:: শচিন্দ্রনাথ পাল
গ্রাম: শরাফপুর পাল পাড়া, ইউনিয়ন: শরাফপুর (ডুমুরিয়া অঞ্চল)
পণ্য: মাটির তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র ও নান্দনিক মৃৎশিল্প
উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু: ২০১৬ সাল (দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এই কাজের সাথে যুক্ত)

বাবার হাত ধরে মাটির পৃথিবীতে আগমন

খুলনার ডুমুরিয়ার শরাফপুর গ্রামের পাল পাড়ার বাতাস জুড়ে সব সময় এক সোঁদা মাটির গন্ধ ভাসে। এই পাড়ারই মেয়ে চৈতালি পাল। তাঁর এই শিল্পের সাথে পরিচয় কোনো আধুনিক ট্রেনিং সেন্টারে হয়নি, হয়েছে তাঁর নিজের ঘরে—বাবা শচিন্দ্রনাথ পালের হাত ধরে। বংশপরম্পরায় চলে আসা এই মাটির কাজকে তিনি ছোটবেলা থেকেই গভীর ভালোবাসায় আপন করে নিয়েছেন। ২০১৬ সাল থেকে আজ প্রায় এক দশক ধরে তিনি পেশাদারভাবে মাটির তৈরি বিভিন্ন তৈজসপত্র ও নান্দনিক জিনিস তৈরি করছেন। বাবার দেখানো সেই পথ ধরেই চৈতালি আজ পাল পাড়ার ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে এক অনন্য নাম।

২০ মিনিটের জাদুকরী ছোঁয়া ও সৃষ্টির অনাবিল আনন্দ

চৈতালি পালের কাজের গতি আর দক্ষতা সত্যিই চোখ ধাঁধানো। চাকার ওপর কাদার দলা রেখে অত্যন্ত নিপুণ হাতে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে তিনি একেকটি নিখুঁত ও সুন্দর মাটির পণ্য ফুটিয়ে তোলেন। এটি করতে যেমন প্রয়োজন দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, তেমনই প্রয়োজন অসীম ধৈর্য। কাদার মণ্ড যখন তাঁর হাতের আঙুলের ছোঁয়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ পাত্র বা শিল্পের রূপ নেয়, তখন চৈতালির মনে এক গভীর মানসিক তৃপ্তি ও ভালো লাগা কাজ করে। মাটির সাথে আগুনের এই যে মিতালী, এর প্রতিটি মুহূর্তেই লুকিয়ে থাকে তাঁর তীব্র সৃষ্টিসুখ।

পণ্যের বিশেষত্ব: নিখুঁত মাপ ও দ্রুততম ডেলিভারির নিশ্চয়তা

চৈতালি পালের তৈরি মৃৎশিল্পের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো—এগুলোর সঠিক আকৃতি, স্থায়িত্ব এবং নিখুঁত ডিজাইন। তিনি কাস্টমারদের চাহিদাকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করেন। কাস্টমাররা যাতে একদম সঠিক সময়ে এবং দ্রুত পণ্য হাতে পায়, সেজন্য তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে “তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে” ডেলিভারি দিতে ভালোবাসেন। তাঁর এই কাজের গতি এবং সততার কারণে ক্রেতাদের কাছে তাঁর পণ্যের অনেক ভালো সুনাম ও নির্ভরযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।

পল্লীবাজারের ডিজিটাল চাকার ওপর শরাফপুরের ঐতিহ্য

মাটির তৈরি এই মৃৎশিল্পগুলো একসময় আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। কিন্তু প্লাস্টিক আর মেলামাইনের ভিড়ে শরাফপুর পাল পাড়ার এই খাঁটি ও পরিবেশবান্ধব পণ্যগুলো দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছিল। সঠিক প্রচার আর বড় বাজারের অভাবে চৈতালির মতো গুণী শিল্পীরা অনেক সময় তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছিলেন না।

এখন পল্লীবাজার (Pallibazar)-এর হাত ধরে চৈতালি পালের সেই ২০ মিনিটের জাদুকরী ছোঁয়ায় তৈরি মৃৎশিল্প সরাসরি চলে আসছে আধুনিক শহরের নান্দনিক ড্রয়িংরুমে। “শেকড়ের টানে প্রযুক্তির ছোঁয়া” আজ শরাফপুর গ্রামের চাকার ঘূর্ণনকে যুক্ত করেছে গ্লোবাল ই-কমার্সের সাথে। প্রযুক্তির এই সেতু চৈতালি পালকে দিচ্ছে তাঁর ঐতিহ্যের সঠিক সমাদর এবং আপনাকে দিচ্ছে বাংলার খাঁটি মাটির স্পন্দন।

“প্রতিটি পণ্যের পেছনে আছে একজন স্বপ্নবাজ উদ্যোক্তার গল্প।”

চৈতালি পালের পরম যত্ন ও বংশানুক্রমিক অভিজ্ঞতায় তৈরি শতভাগ পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক মাটির তৈজসপত্র দিয়ে আপনার ঘর সাজাতে আজই ভিজিট করুন আমাদের পল্লীবাজার উদ্যোক্তা কর্নার-এ।

Main Menu